বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১১

এত ভালোবাসি এত যারে চাই

ফেইসবুকে আমাকে এ্যাড পাঠালো সবুজ। আমি তার প্রোফাইল দেখলাম ৯৯৯ টা বন্ধু, আমার খুব প্রিয় ক’জন বন্ধুর মিচ্যুয়াল বন্ধু বলে আমি সবুজ কে এ্যাড করলাম। সবুজের সাথে প্রথম চেটিং করার দিন আমি তাকে বললাম ‘আমি আপনার নতুন বন্ধু’। বললো ফাইন। আপনার এতগুলি বন্ধু আপনি আমাকে কেমন করে মনে রাখবেন? বললো কঠিন প্রশ্ন।
তবু আমাদের প্রায় প্রতিদিন চেটিং এ কথা হতে থাকে। আমি ভীষন কবিতা পছন্দ করি, সবুজ আমাকে অনেক কবিতা লিখতো। দারুন সব কবিতা গুলো, আমি দিন-দিন ওর কথা ওর মানষিকতা ওর ছবি ওর হাসি সব দেখে দেখে মুগ্ধ হতে থাকলা্ম। পরিচয়ের পর সবুজ আমাকে নিয়ে অনেক স্ট্যাটাস দিত। আমার ভীষন ভাল লাগতো। সবুজের অনেক কিছুই ভাল লাগার মত।
সবুজের সাথে আমার যখন পরিচয় হয় তখন আমার জীবনের কিছু চড়াই-উতড়াই পার করে যাচ্ছিলাম। সবুজ খুব সুন্দর করে বোঝাতেও পারে, মন ভাল করে দিতে পারে। বোকা দিতে পারে। সবুজকে আমার মোবাইল নাম্বার দিলাম ইনবক্সে, ভাবলাম হয়তো ফোন করবে। কিন্ত করেনি... অনেকদিন অপেক্ষা করলাম। সেই ম্যাসেজের কোন উত্তরও দেয়নি এমনকি ফোন করার বিষয়ে কোন কথাও সবুজ বলেনি।আমি একদিন এই প্রসঙ্গ তুলতেই সবুজ বললো ও নাকি ভাল মোবাইল ইউজার না। আমি মেনে নিলাম।পরক্ষনেই সবুজ ওর নাম্বার দিল আমাকে। কথা হলো কিছুক্ষন। কথার মানুষটি যেন অন্য, তবু আমি তাকে চিনি। মাঝে-মাঝে মোবাইলে এস আম এস আসতো যে আমি যেন অনলিনাইনে আসি, সবুজ অপেক্ষা করে বসে আছে।
সবুজ মাঝে-মাঝে বলতো ধানমন্ডির লেকে বৃষ্টিতে ভিজে-ভিজে দু’জন চা খাবো একসাথে। যদি সত্যি দেখা করার কথা বলতাম সবুজ বলতো, ‘দেখা নাই হলো ম্যাডাম’। আমার খুব ইচ্ছে করতো একটু দেখি, যাকে আমি এত ভালবাসি সে কি সত্যি নাকি শুধুই কল্পনা সবটুকু? সবুজকে চমকে দেয়ার জন্য আমি সবুজের অফিসে গিয়ে হাজির হলাম একদিন। মনে-মনে একটু ভয়ও ছিলো কিভাবে নিবে সবুজ বিষয়টি? অফিসের লোকজন কি ভাবতে পারে? সাথে-সাথে মনে হলো সবুজ এসব নিয়ে ভাবেনা কখনো কিংবা সবুজ সব ম্যা্নেজ করতে পারে। ১৭ তলায় উঠে দেখি অফিসের ভিতরটা কাচেঁর দরজা দিয়ে বাহির থেকে দেখা যাচ্ছে অনেকটা। লোকজন নেই তেমন কিন্ত ঠিক দরজার কাছেই বসে কাজ করছে একটি লোক। আমি ভিতরে ঢুকে চোখ ঘুরাতেই দেখি সবুজ দূরের একটি রুমে আরেকটি লোকের সাথে কাজ করছে। আমি দরজার পাশে বসা লোকটিকে বললাম সবুজ সাহেব আছেন? লোকটি ডাকতে গেলেন, সবুজ হাসতে-হাসতে এসে সামনে এলো... সেদিনের পুরো ঘটনা নিয়ে আমি কবিতা লিখেছি।

একটি বকুল ফুল 
পড়ন্ত বিকেল বেলা, ব্যাস্ত শহর
অচেনা পথ আর তীব্র অপেক্ষা পেরিয়ে
অবশেষে, তুমি আমাকে বললে...
‘ম্যাডাম কফি খাবেন’ ?
যা সত্যি হবার কথা ছিল না
তবু এ দেখা প্রথম তা বলবো না...
এ চোখে আমি কতবার যে ভেসেছি
এ হাসিঁতে কত এলোমেলো হয়েছি
তা তোমার অজানা।
তবু তোমার দু’চোখে চোখ রাখা দায়
যেন কূলহীন সাগরে নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয়।।
বাস থেকে নামতে কষ্ট হবে কিনা ?
রাস্তা পারাপারের সময় বললে সামনে রিকশা,
এ পাশে দাড়ান, ওপাশে বাইক !
তোমার এত যত্ন করা, আমার আশা ছিল না
তখন আমার সমস্ত অনুভূতিতে ছিল
শুধু তোমার ভাবনা।
পাশাপাশি পথ চলা...
হঠ্যাৎ পায়ের কাছে পেলে
বকুল ফুল ঝরে থাকা
আমি জানি তা নিজের অজান্তে
আমার জন্য তুলে নেওয়া
ছোট্ট বকুল ফুল আর তার সমস্ত সুরভি
যেন তোমার কাছ থেকে পাওয়া সমস্ত পৃথিবী।
আর এ স্মৃ্তিটুকু ছুঁয়ে দেখার জন্য
একটি বকুল ফুল তার জীবন্ত অনুভূতি।
আজ চাঁদ টাও যেন কেমন, অসম্পূন !
তবু খুব কাছাকাছি আর মায়াবি
এ চাঁদ দেখে মনে হলো, কি ছিল সে চোখে ?
চলে আসার সময় ফিরে দেখি,
অন্ধকারে জলজল করে জ্বলছিল
আমাকে দেখছিল সে চোখ দু’টি...
তোমার শেষ কথাটি আমাকে
সারাটা পথ মুগ্ধ করে রেখেছিল
‘আপনি অফলাইনের চেয়ে অনলাইনে সুন্দর তা জানেন’ ?
এ দেখা প্রথম এবং শেষ কিনা জানিনা,
সাদামাটা সাধারন প্রিয় সবুজ কে বলছি...
আজ রবিবার, শুভ রাত্রি।।

সবুজ কেমন যেন পালিয়ে বেড়ায়, কিন্ত পারতোনা হয়তো। খুব মাঝে-মাঝে রাতে ফোনে কথা হত। আমি সবুজকে বলেছি ‘আমি আপনাকে ভালবাসি। আপনার ভালবাসতেই হবে তা জরুরি নয়, আমি বাসি’। তবু কোথায় যেন সবুজের বাধাঁ, হয়তো আমার মত ভাবেনা আমাকে। হয়তো এ ভালবাসা পূর্নতা পাবেনা কখনো, আমিও সবুজকে জোড় করতে পারিনা। খুব সামান্য একটা কারন ধরে সবুজকে আমি রিমুভ করে দিয়েছি ফেইসবুক থেকে। কথা হয়না, সবুজও কখনো আমাকে ফোন করেনা। কিন্ত আমি প্রতিদিন সবুজের প্রোফাইল দেখি, ওপেন রেখেছে কেন জানি। ওর ছবি দেখি, ম্যাসেজ গুলো পড়ি। খুব খুব মিস করি খুব কষ্ট পাই, তখন বুঝতে পারি আমি সত্যি সবুজকে ভালবাসি!

“এত ভালোবাসি এত যারে চাই
মনে হয় না তো সে যে কাছে নাই,
যেন এ বাসনা ব্যাকুল আবেগে
তাহারে আনিবে ডাকি”

লিখেছেন-জিহান

http://www.facebook.com/notes/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81-%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA/%E0%A6%8F%E0%A6%A4-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF-%E0%A6%8F%E0%A6%A4-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87/159474760799348

মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০১১

ভালবাসার অতৃপ্ততা

তাকাই তোমাতে ,
ঠোঁটে ও চিবুকে,
আরও গভীর,
নীল ও নয়নে,
বারে বারে।
এলোমেলো বাহারি কামনার তন্দ্রালু শয়নে।
---------------

কথা ছিল জোছনা রাতের নির্জনে
নগ্ন পায়ের ছাপ রেখে গহীন বিজনে ,
মুখোমুখি তাকিয়ে থাকার তোমাতে – আমাতে।
আমাতে-তোমাতে ভয়ের শৃঙ্খল ভাঙবে কামনাতে।
দু’একটি জোনাকি-ও আসবে
মধ্যরাতের তারাজ্বলা জোছনাতে কামনায় ভাসবে।
---------------
আরও অনেক-অনেক কথা ছিল—
আফ্রোদিতির রং-রুপে স্পার্টান বীরের
শৌর্যের বাড়াবাড়ির কথা ছিল ;
কিংবা পাখিদের ঠোঁটের ঘষাঘষির কথা ছিল,
তাদের প্রেমীয় চিহ্নের কথা ছিল ।
আর কিছু না হোক ভালবাসার আবেগে চোখ বোজার কথা ছিল ।

---------------------
ভালবাসায় নগ্নতার বাড়াবাড়ি,
বাড়াবাড়ি পর্যায়ের থাকার কথা ছিল ।
কিংবা হয়তোবা শুধুই হাতে-হাত
রাখার কথা ছিল ।
-------------------
অবশেষে জোছনা রাতের শেষ হল,
ছোট্ট ঘাসফুলে হয়তোবা দু’এক ফোঁটা জলও গড়িয়ে পড়ল,
কিন্তু ভালবাসার মুদ্রাটা যে অনেক আগেই .........


http://www.somewhereinblog.net/blog/firsteye/29428486

কেমন যে আছো, কেমন যে থাক তুমি কিছুতে হয় না জানা।

কেমন যে আছো, কেমন যে থাক তুমি
কিছুতে হয় না জানা।
নিশিরাতে মন তোমার কেমন যে করে
কেমন-বা করে আউলা বাতাসে মন
জানি না তোমায় আমি কিছুতেই কিছু।

ভালোবাসার-গন্ধ বুকে কেমন যে থাকো একা
কেমন যে কাটাও প্রহর, বেলা
মেলিয়া করুণ চোখ তাকাও উদাস কোন্ দূরে
ঘুম ভেঙ্গে গেলে কখনো হঠাৎ
কার কথা মনে পড়ে যে তোমার
হয় না কিছুই জানা।

কিছুই হয়না জানা
কেমন যে আছো, কেমন যে থাক তুমি
ভালোবেসে ভেজা চোখে কীভাবে তাকাও
ওই বুকে কার জন্যে ভালোবাসা-নদী
কার জন্যে কষ্ট বুকের ভেতরে
না .. হয় না জানা কিছুতেই
কিছুতেই কিছু জানি না তোমায়।


সংগৃহীত

রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০১১

Friendship Poem, romantic Poem আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………


আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
আমার সাথে কথা বলতে হলে আগে তোমাকে ভাবতে হয় ......

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
আমার উপস্থিতি তোমাকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয় ..............

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
তোমাকে সাহায্য করার জন্যে আমাকে বলা যায় কিনা এমোন ভাবছো …………..

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
তোমার জীবন সম্পর্কে ধারনাগুলোর কথা আমি জানতে উৎসুক হবো কিনা, এ নিয়ে তুমি ভাবনায় পড়..................

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
আমি যা বলি তুমি তা-ই শোন কিন্তু কখোনই বোঝনা, কি আমি বলতে চাইনি ............

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
এমোনটা ভাবো যে, তোমার ব্যথায়, তোমার কষ্টে আমার চোখে দু’ফোটা জল ঝরবেনা..............
আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
ভাবো তোমার বিরহে, আমি তোমা হতে দূরে থাকার ব্যাথা অনুভব করি না........
আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
তুমি না দেখতে পাও, তোমার মুখের একটু হাসির জন্যে আমি কি না করেছি ..........

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……
তুমি না জানো, সেই মুখের হাসিটুকুই যে আমার দিনগুলোকে আলোকিত করে রাখে.........

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……
তুমি কখোনও ভেবে থাকো , যে হাত তুমি ধরেছো তা উষ্ণতা ছড়াবে তো ?...............

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি………
এমোনই দ্বিধায় পড়ে যাও, তুমি শুধু দু’বাহুতেই বাঁধা পড়ে আছো – বুকের মধ্যিখানে নয়.......
আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
আমার সাথে দু’পা হাটতে গেলে তোমার মনে হয়, অনেকটা পথ হাটা হয়েছে.............

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
কথা বলতে তুমি মরে যাচ্ছো অথচ বলছোনা, চুপ করে আছো..........

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
তুমি কখোনও আমাকে প্রশ্ন করো, কাকে আমি বেশী ভালোবাসি................

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
তুমি দীর্ঘ সময় নাও এটা বলতে যে, আমি তোমার কতোখানি  

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
আমার ভুলে ফিরিয়ে নাও, আমার থেকে মুখ ........

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
যদি দূরে সরে যাও, আমায় পিছু ফেলে.........

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
যদি আমার উপর অভিমান করে, তোমার সাথে আমায় পথ চলতে বাধ্য না কর,

আমি তোমার বন্ধু নই, যদি……………
আমাকে তোমার থেকে দূরে সরে যেতে দাও,


From Somewhereinblog.net

Romantic Poem, Love Poem

সদা তুমি

তোমার বাহুতে সকল অনুভূতি গিয়ে মিশে মোহনার ন্যায়
তোমার বুকে হারে সব শক্তি/
তোমার চোখে অন্ধ হই আমি
হাসিতে দেখি সকল সুখের তৃপ্তি
বুকের সুউচ্চ গাথুনিতে লুটাই অবিরত
তোমার গ্রীবায় আমার ঠোট চেখে নেয় সকল ব্যথা
আমার শিহরণের, বাসনার উৎস তুমি
তোমার মাঝে হারাই নিয়ত,
ডুবি গহীনে অসীম আস্বাদে
সুতীবতায় প্রতিটি চুম্বন তোমার ঠোটে নেয় আশ্রয়
তোমার উত্তাপে আলো ছড়াও আমার ভিতরে
আলোর লেহনে মত্ত আমি
পৃথিবীর আদিম অমিয় সুধার আনন্দে
বারবার তোমারেই চাই আমার আপনে
চিরতরে চির আপন করে নিবিড়ে

By :

শাহানূর

বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১১

Tumi na thakle sokal ta ato :: তুমি না থাকলে সকালটা এতো মিষ্টি হতো না

তুমি না থাকলে সকালটা এতো মিষ্টি হতো না
তুমি না থাকলে মেঘ করে যেত বৃষ্টি হতো না
তুমি না থাকলে মন কষাকষি, করে হাসাহাসি নাক ঘষাঘষি
Cরাপা রাপপাপপা রাম পাম পা।

তুমি না থাকলে চাঁদটার গায়ে পড়ে যেত মরচে
Cতুমি না থাকলে কিপটে লোকটা হতো না যে খরচে
তুমি না থাকলে স্বপ্নের রং হয়ে যেত খয়েরী
Cবনবন করে দুনিয়াটা এই পারতো না ঘুরতে
তুমি না থাকলে রবীন্দ্রনাথ কালির দোয়াত মাথায় ঠুকে হতো কুপোকাত
Cরাপা রাপপাপপা রাম পাম পা।

তুমি না থাকলে সুমন কেলেঙ্কারী করতো কত
গীটার ফেলে গুয়েতেমালায় নামটা শেখাতে হতো
পাশের বাড়ির মেয়েটা পাশের পাড়ার ছেলের সাথে
তুমি না থাকলে এইভাবে কি বাড়িটা ছেড়ে পালাতো
তুমি না থাকলে তাজমহলটা বানানোই হতো না
লাঠালাঠি এই কাটাকাটি কিছু থামানোই যেত না
তুমি না থাকলে মোনালিসা কবে হয়ে যেত গম্ভীর
তুমি না থাকলে তোমার চিঠি জমানোই হতো না
তুমি না থাকলে রোমিও কবে
হোমিওপ্যাথির দোকান খুলে জমিয়ে দিতো
রাপা রাপপাপপা রাম পাম পা।

ডাউনলোড তুমি না থাকলে

Coffee House er sei adda ta aj ar nei :: কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই

কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই

কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই
আজ আর নেই,
কোথায় হারিয়ে গেল
সোনালী বিকেলগুলো সেই
আজ আর নেই ।

নিখিলেশ প্যারিসে, মঈদুল ঢাকাতে
নেই তারা আজ কোন খবর,
গ্র্যাণ্ডের গীটারিস্ট গোয়ানীস ডিসুজা
ঘুমিয়ে আছে যে আজ কবরে।

কাকে যেন ভালোবেসে আঘাত পেয়ে যে শেষে
পাগলা গারদে আছে রমা রায়,
অমলটা ধুঁকছে দুরন্ত ক্যানসারে
জীবন করে নি তাকে ক্ষমা হায় ।

সুজাতাই আজ শুধু সবচেয়ে সুখে আছে
শুনেছি তো লাখ্ পতি স্বামী তার ,
হীরে আর জহরতে আগাগোড়া মোড়া সে
গাড়ীবাড়ী সবকিছু দামী তার।

আর্ট কলেজের ছেলে নিখিলেশ সান্যাল
বিজ্ঞাপনের ছবি আঁকতো,
আর চোখ ভরা কথা নিয়ে
নির্বাক শ্রোতা হয়ে
ডিসুজাটা বসে শুধু থাকতো ।

একটা টেবিলে সেই তিন চার ঘন্টা
চারমিনারটা ঠোঁটে জ্বলতো ,
কখনো বিষ্ণু দে কখনো যামিনী রায়
এই নিয়ে তর্কটা চলতো।

রোদ ঝড় বৃষ্টিতে যেখানেই যে থাকুক
কাজ সেরে ঠিক এসে জুটতাম ,
চারটেতে শুরু হয়ে জমিয়ে আড্ডা মেরে
সাড়ে সাতটায় ঠিক উঠতাম ।

কবি কবি চেহারা কাঁধেতে ঝোলানো ব্যাগ
মুছে যাবে অমলের নামটা ,
একটা কবিতা তার হোল না কোথাও ছাপা
পেলনা সে প্রতিভার দামটা।

অফিসের সোশালে ‘অ্যামেচার’ নাটকে
রমা রায় অভিনয় করতো ,
কাগজের রিপোর্টার মঈদুল এসে রোজ
কি লিখেছে তাই শুধু পড়তো ।

সেই সাত জন নেই আজ
টেবিলটা তবু আছে
সাতটা পেয়ালা অজোও খালি নেই,
একই সে বাগানে আজ
এসেছে নতুন কুঁড়ি
শুধু সেই সেদিনের মালী নেই।

কত স্বপনের রোদ ওঠে এই কফি হাউসে
কত স্বপ্ন মেঘে ঢেকে যায়,
কত জন এল গেলো
কতজনই আসবে
কফি হাউসটা শুধু থেকে যায় ।

কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই
আজ আর নেই,
কোথায় হারিয়ে গেল
সোনালী বিকেলগুলো সেই
আজ আর নেই ।

(সুরঃ সুপর্ণ কান্তি ঘোষ, শিল্পীঃ মান্না দে)