ফেইসবুকে আমাকে এ্যাড পাঠালো সবুজ। আমি তার প্রোফাইল দেখলাম ৯৯৯ টা বন্ধু, আমার খুব প্রিয় ক’জন বন্ধুর মিচ্যুয়াল বন্ধু বলে আমি সবুজ কে এ্যাড করলাম। সবুজের সাথে প্রথম চেটিং করার দিন আমি তাকে বললাম ‘আমি আপনার নতুন বন্ধু’। বললো ফাইন। আপনার এতগুলি বন্ধু আপনি আমাকে কেমন করে মনে রাখবেন? বললো কঠিন প্রশ্ন।
তবু আমাদের প্রায় প্রতিদিন চেটিং এ কথা হতে থাকে। আমি ভীষন কবিতা পছন্দ করি, সবুজ আমাকে অনেক কবিতা লিখতো। দারুন সব কবিতা গুলো, আমি দিন-দিন ওর কথা ওর মানষিকতা ওর ছবি ওর হাসি সব দেখে দেখে মুগ্ধ হতে থাকলা্ম। পরিচয়ের পর সবুজ আমাকে নিয়ে অনেক স্ট্যাটাস দিত। আমার ভীষন ভাল লাগতো। সবুজের অনেক কিছুই ভাল লাগার মত।
সবুজের সাথে আমার যখন পরিচয় হয় তখন আমার জীবনের কিছু চড়াই-উতড়াই পার করে যাচ্ছিলাম। সবুজ খুব সুন্দর করে বোঝাতেও পারে, মন ভাল করে দিতে পারে। বোকা দিতে পারে। সবুজকে আমার মোবাইল নাম্বার দিলাম ইনবক্সে, ভাবলাম হয়তো ফোন করবে। কিন্ত করেনি... অনেকদিন অপেক্ষা করলাম। সেই ম্যাসেজের কোন উত্তরও দেয়নি এমনকি ফোন করার বিষয়ে কোন কথাও সবুজ বলেনি।আমি একদিন এই প্রসঙ্গ তুলতেই সবুজ বললো ও নাকি ভাল মোবাইল ইউজার না। আমি মেনে নিলাম।পরক্ষনেই সবুজ ওর নাম্বার দিল আমাকে। কথা হলো কিছুক্ষন। কথার মানুষটি যেন অন্য, তবু আমি তাকে চিনি। মাঝে-মাঝে মোবাইলে এস আম এস আসতো যে আমি যেন অনলিনাইনে আসি, সবুজ অপেক্ষা করে বসে আছে।
সবুজ মাঝে-মাঝে বলতো ধানমন্ডির লেকে বৃষ্টিতে ভিজে-ভিজে দু’জন চা খাবো একসাথে। যদি সত্যি দেখা করার কথা বলতাম সবুজ বলতো, ‘দেখা নাই হলো ম্যাডাম’। আমার খুব ইচ্ছে করতো একটু দেখি, যাকে আমি এত ভালবাসি সে কি সত্যি নাকি শুধুই কল্পনা সবটুকু? সবুজকে চমকে দেয়ার জন্য আমি সবুজের অফিসে গিয়ে হাজির হলাম একদিন। মনে-মনে একটু ভয়ও ছিলো কিভাবে নিবে সবুজ বিষয়টি? অফিসের লোকজন কি ভাবতে পারে? সাথে-সাথে মনে হলো সবুজ এসব নিয়ে ভাবেনা কখনো কিংবা সবুজ সব ম্যা্নেজ করতে পারে। ১৭ তলায় উঠে দেখি অফিসের ভিতরটা কাচেঁর দরজা দিয়ে বাহির থেকে দেখা যাচ্ছে অনেকটা। লোকজন নেই তেমন কিন্ত ঠিক দরজার কাছেই বসে কাজ করছে একটি লোক। আমি ভিতরে ঢুকে চোখ ঘুরাতেই দেখি সবুজ দূরের একটি রুমে আরেকটি লোকের সাথে কাজ করছে। আমি দরজার পাশে বসা লোকটিকে বললাম সবুজ সাহেব আছেন? লোকটি ডাকতে গেলেন, সবুজ হাসতে-হাসতে এসে সামনে এলো... সেদিনের পুরো ঘটনা নিয়ে আমি কবিতা লিখেছি।
একটি বকুল ফুল
পড়ন্ত বিকেল বেলা, ব্যাস্ত শহর
অচেনা পথ আর তীব্র অপেক্ষা পেরিয়ে
অবশেষে, তুমি আমাকে বললে...
‘ম্যাডাম কফি খাবেন’ ?
যা সত্যি হবার কথা ছিল না
তবু এ দেখা প্রথম তা বলবো না...
এ চোখে আমি কতবার যে ভেসেছি
এ হাসিঁতে কত এলোমেলো হয়েছি
তা তোমার অজানা।
তবু তোমার দু’চোখে চোখ রাখা দায়
যেন কূলহীন সাগরে নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয়।।
বাস থেকে নামতে কষ্ট হবে কিনা ?
রাস্তা পারাপারের সময় বললে সামনে রিকশা,
এ পাশে দাড়ান, ওপাশে বাইক !
তোমার এত যত্ন করা, আমার আশা ছিল না
তখন আমার সমস্ত অনুভূতিতে ছিল
শুধু তোমার ভাবনা।
পাশাপাশি পথ চলা...
হঠ্যাৎ পায়ের কাছে পেলে
বকুল ফুল ঝরে থাকা
আমি জানি তা নিজের অজান্তে
আমার জন্য তুলে নেওয়া
ছোট্ট বকুল ফুল আর তার সমস্ত সুরভি
যেন তোমার কাছ থেকে পাওয়া সমস্ত পৃথিবী।
আর এ স্মৃ্তিটুকু ছুঁয়ে দেখার জন্য
একটি বকুল ফুল তার জীবন্ত অনুভূতি।
আজ চাঁদ টাও যেন কেমন, অসম্পূন !
তবু খুব কাছাকাছি আর মায়াবি
এ চাঁদ দেখে মনে হলো, কি ছিল সে চোখে ?
চলে আসার সময় ফিরে দেখি,
অন্ধকারে জলজল করে জ্বলছিল
আমাকে দেখছিল সে চোখ দু’টি...
তোমার শেষ কথাটি আমাকে
সারাটা পথ মুগ্ধ করে রেখেছিল
‘আপনি অফলাইনের চেয়ে অনলাইনে সুন্দর তা জানেন’ ?
এ দেখা প্রথম এবং শেষ কিনা জানিনা,
সাদামাটা সাধারন প্রিয় সবুজ কে বলছি...
আজ রবিবার, শুভ রাত্রি।।
সবুজ কেমন যেন পালিয়ে বেড়ায়, কিন্ত পারতোনা হয়তো। খুব মাঝে-মাঝে রাতে ফোনে কথা হত। আমি সবুজকে বলেছি ‘আমি আপনাকে ভালবাসি। আপনার ভালবাসতেই হবে তা জরুরি নয়, আমি বাসি’। তবু কোথায় যেন সবুজের বাধাঁ, হয়তো আমার মত ভাবেনা আমাকে। হয়তো এ ভালবাসা পূর্নতা পাবেনা কখনো, আমিও সবুজকে জোড় করতে পারিনা। খুব সামান্য একটা কারন ধরে সবুজকে আমি রিমুভ করে দিয়েছি ফেইসবুক থেকে। কথা হয়না, সবুজও কখনো আমাকে ফোন করেনা। কিন্ত আমি প্রতিদিন সবুজের প্রোফাইল দেখি, ওপেন রেখেছে কেন জানি। ওর ছবি দেখি, ম্যাসেজ গুলো পড়ি। খুব খুব মিস করি খুব কষ্ট পাই, তখন বুঝতে পারি আমি সত্যি সবুজকে ভালবাসি!
“এত ভালোবাসি এত যারে চাই
মনে হয় না তো সে যে কাছে নাই,
যেন এ বাসনা ব্যাকুল আবেগে
তাহারে আনিবে ডাকি”
লিখেছেন-জিহান
http://www.facebook.com/notes/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81-%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA/%E0%A6%8F%E0%A6%A4-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF-%E0%A6%8F%E0%A6%A4-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87/159474760799348
তবু আমাদের প্রায় প্রতিদিন চেটিং এ কথা হতে থাকে। আমি ভীষন কবিতা পছন্দ করি, সবুজ আমাকে অনেক কবিতা লিখতো। দারুন সব কবিতা গুলো, আমি দিন-দিন ওর কথা ওর মানষিকতা ওর ছবি ওর হাসি সব দেখে দেখে মুগ্ধ হতে থাকলা্ম। পরিচয়ের পর সবুজ আমাকে নিয়ে অনেক স্ট্যাটাস দিত। আমার ভীষন ভাল লাগতো। সবুজের অনেক কিছুই ভাল লাগার মত।
সবুজের সাথে আমার যখন পরিচয় হয় তখন আমার জীবনের কিছু চড়াই-উতড়াই পার করে যাচ্ছিলাম। সবুজ খুব সুন্দর করে বোঝাতেও পারে, মন ভাল করে দিতে পারে। বোকা দিতে পারে। সবুজকে আমার মোবাইল নাম্বার দিলাম ইনবক্সে, ভাবলাম হয়তো ফোন করবে। কিন্ত করেনি... অনেকদিন অপেক্ষা করলাম। সেই ম্যাসেজের কোন উত্তরও দেয়নি এমনকি ফোন করার বিষয়ে কোন কথাও সবুজ বলেনি।আমি একদিন এই প্রসঙ্গ তুলতেই সবুজ বললো ও নাকি ভাল মোবাইল ইউজার না। আমি মেনে নিলাম।পরক্ষনেই সবুজ ওর নাম্বার দিল আমাকে। কথা হলো কিছুক্ষন। কথার মানুষটি যেন অন্য, তবু আমি তাকে চিনি। মাঝে-মাঝে মোবাইলে এস আম এস আসতো যে আমি যেন অনলিনাইনে আসি, সবুজ অপেক্ষা করে বসে আছে।
সবুজ মাঝে-মাঝে বলতো ধানমন্ডির লেকে বৃষ্টিতে ভিজে-ভিজে দু’জন চা খাবো একসাথে। যদি সত্যি দেখা করার কথা বলতাম সবুজ বলতো, ‘দেখা নাই হলো ম্যাডাম’। আমার খুব ইচ্ছে করতো একটু দেখি, যাকে আমি এত ভালবাসি সে কি সত্যি নাকি শুধুই কল্পনা সবটুকু? সবুজকে চমকে দেয়ার জন্য আমি সবুজের অফিসে গিয়ে হাজির হলাম একদিন। মনে-মনে একটু ভয়ও ছিলো কিভাবে নিবে সবুজ বিষয়টি? অফিসের লোকজন কি ভাবতে পারে? সাথে-সাথে মনে হলো সবুজ এসব নিয়ে ভাবেনা কখনো কিংবা সবুজ সব ম্যা্নেজ করতে পারে। ১৭ তলায় উঠে দেখি অফিসের ভিতরটা কাচেঁর দরজা দিয়ে বাহির থেকে দেখা যাচ্ছে অনেকটা। লোকজন নেই তেমন কিন্ত ঠিক দরজার কাছেই বসে কাজ করছে একটি লোক। আমি ভিতরে ঢুকে চোখ ঘুরাতেই দেখি সবুজ দূরের একটি রুমে আরেকটি লোকের সাথে কাজ করছে। আমি দরজার পাশে বসা লোকটিকে বললাম সবুজ সাহেব আছেন? লোকটি ডাকতে গেলেন, সবুজ হাসতে-হাসতে এসে সামনে এলো... সেদিনের পুরো ঘটনা নিয়ে আমি কবিতা লিখেছি।
একটি বকুল ফুল
পড়ন্ত বিকেল বেলা, ব্যাস্ত শহর
অচেনা পথ আর তীব্র অপেক্ষা পেরিয়ে
অবশেষে, তুমি আমাকে বললে...
‘ম্যাডাম কফি খাবেন’ ?
যা সত্যি হবার কথা ছিল না
তবু এ দেখা প্রথম তা বলবো না...
এ চোখে আমি কতবার যে ভেসেছি
এ হাসিঁতে কত এলোমেলো হয়েছি
তা তোমার অজানা।
তবু তোমার দু’চোখে চোখ রাখা দায়
যেন কূলহীন সাগরে নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয়।।
বাস থেকে নামতে কষ্ট হবে কিনা ?
রাস্তা পারাপারের সময় বললে সামনে রিকশা,
এ পাশে দাড়ান, ওপাশে বাইক !
তোমার এত যত্ন করা, আমার আশা ছিল না
তখন আমার সমস্ত অনুভূতিতে ছিল
শুধু তোমার ভাবনা।
পাশাপাশি পথ চলা...
হঠ্যাৎ পায়ের কাছে পেলে
বকুল ফুল ঝরে থাকা
আমি জানি তা নিজের অজান্তে
আমার জন্য তুলে নেওয়া
ছোট্ট বকুল ফুল আর তার সমস্ত সুরভি
যেন তোমার কাছ থেকে পাওয়া সমস্ত পৃথিবী।
আর এ স্মৃ্তিটুকু ছুঁয়ে দেখার জন্য
একটি বকুল ফুল তার জীবন্ত অনুভূতি।
আজ চাঁদ টাও যেন কেমন, অসম্পূন !
তবু খুব কাছাকাছি আর মায়াবি
এ চাঁদ দেখে মনে হলো, কি ছিল সে চোখে ?
চলে আসার সময় ফিরে দেখি,
অন্ধকারে জলজল করে জ্বলছিল
আমাকে দেখছিল সে চোখ দু’টি...
তোমার শেষ কথাটি আমাকে
সারাটা পথ মুগ্ধ করে রেখেছিল
‘আপনি অফলাইনের চেয়ে অনলাইনে সুন্দর তা জানেন’ ?
এ দেখা প্রথম এবং শেষ কিনা জানিনা,
সাদামাটা সাধারন প্রিয় সবুজ কে বলছি...
আজ রবিবার, শুভ রাত্রি।।
সবুজ কেমন যেন পালিয়ে বেড়ায়, কিন্ত পারতোনা হয়তো। খুব মাঝে-মাঝে রাতে ফোনে কথা হত। আমি সবুজকে বলেছি ‘আমি আপনাকে ভালবাসি। আপনার ভালবাসতেই হবে তা জরুরি নয়, আমি বাসি’। তবু কোথায় যেন সবুজের বাধাঁ, হয়তো আমার মত ভাবেনা আমাকে। হয়তো এ ভালবাসা পূর্নতা পাবেনা কখনো, আমিও সবুজকে জোড় করতে পারিনা। খুব সামান্য একটা কারন ধরে সবুজকে আমি রিমুভ করে দিয়েছি ফেইসবুক থেকে। কথা হয়না, সবুজও কখনো আমাকে ফোন করেনা। কিন্ত আমি প্রতিদিন সবুজের প্রোফাইল দেখি, ওপেন রেখেছে কেন জানি। ওর ছবি দেখি, ম্যাসেজ গুলো পড়ি। খুব খুব মিস করি খুব কষ্ট পাই, তখন বুঝতে পারি আমি সত্যি সবুজকে ভালবাসি!
“এত ভালোবাসি এত যারে চাই
মনে হয় না তো সে যে কাছে নাই,
যেন এ বাসনা ব্যাকুল আবেগে
তাহারে আনিবে ডাকি”
লিখেছেন-জিহান
http://www.facebook.com/notes/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81-%E0%A6%86%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA/%E0%A6%8F%E0%A6%A4-%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF-%E0%A6%8F%E0%A6%A4-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87/159474760799348